১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

৪ প্রতারক গ্রেফতার বিক্রয়ডটকমে পুলিশ পরিচয়ে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য দিতেন না তারা

আপডেট: মে ৯, ২০২৩

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বিক্রয়ডটকমে মোবাইল ফোন, বিদেশি পণ্য ও পুরোনো গাড়িসহ নানা সামগ্রীর ছবিসহ চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। চক্রের সদস্যরা গ্রাহকদের কাছে নিজেদের পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিতেন। পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হতো অগ্রিম টাকা। টাকা নেওয়ার পরই তারা হয়ে যেতেন লাপাত্তা। গ্রামের সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট খুলেও প্রতারণা করতো চক্রটি।

এমনই এক প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সাইবার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন টিম। গ্রেফতাররা হলেন- মো. রফিকুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুস সাকিব, রাশেদ মিয়া ওরফে রাকিব ও মো. আদিল হোসেন।

মঙ্গলবার (৯ মে) বিকেলে সাইবার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশনের টিম লিডার আরিফুল হোসেইন তুহিন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজধানীর রূপনগরের সামিম মোল্লা বিক্রয়ডটকমে একটি টয়োটা গাড়ির বিজ্ঞাপন দেখে গাড়িটি কিনতে চাইলে প্রতারক মোবাইলের মাধ্যমে জানায়, গাড়িটি সুনামগঞ্জে আছে এবং বায়না হিসেবে চার লাখ টাকা দাবি করেন। সামিম মোল্লাকে গাড়িটি কেনার জন্য দ্রুত সুনামগঞ্জে যেতে বলা হয়। সামিম মোবাইল ব্যাংকিং এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ দিয়ে সুনামগঞ্জ গিয়ে প্রতারকদের ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পান এবং বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার।

একই অবস্থা রাজধানীর খিলক্ষেতের সজীব মিয়ার। তিনি বিক্রয়ডটকম থেকে মোবাইল ফোন অর্ডার করলে বিক্রেতা তার কাছে বিকাশে অগ্রিম টাকা চান। পরে টাকা নিয়ে মোবাইল ফোনটি বাসার ঠিকানায় ডেলিভারি দেয়া হয়েছে বলে জানায়। প্রমাণ হিসেবে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি চালানও পাঠানো হয়। কিন্তু মাস পেরিয়ে গেলেও ফোনের খোঁজ মেলে না। হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় প্রতারকদের ফোন নম্বরগুলো। এমনকি বিক্রয়ডটকমের ওয়েবসাইট থেকেও লাপাত্তা হয়ে যায় তাদের তথ্য।

ভুক্তভোগীদের সবাই চক্রের একই প্রতারকের কাছ থেকে পণ্য কিনতে গিয়ে ফাঁদে পড়েন বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, প্রতারকদের একজন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ডও দেখাতেন।

আরিফুল হোসেইন তুহিন বলেন, গত কয়েক মাস ধরে অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করে আসা চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সাইবার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন টিম। এরমধ্যে রফিকুল ইসলাম বাপ্পিকে গত শুক্রবার (৫ মে) কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার (৮ মে) রংপুরের কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও ১৭টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

সাইবার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশনের এ কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি ভুয়া ফোন নম্বর, ই-মেইল এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা করতো। সুন্দরবন কুরিয়ারের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে টাকার বিনিময়ে খালি চালানপত্রের বই কিনে আনতো।

এসব ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিস ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় রয়েছে উল্লেখ করে ঝুঁকি এড়াতে পণ্য হাতে পাওয়ার আগে টাকা পরিশোধ না করতে গ্রাহকদের পরামর্শ দেন পুলিশ এ কর্মকর্তা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network